ইনসিকিউরিটির

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, তারা জীবনের ছোট-বড় বিষয় নিয়ে নিজের অজান্তেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। অর্থাৎ কমবেশি অনেকেই ইনসিকিউরিটি বা নিরাপত্তাহীনতাজনিত সমস্যার শিকার হয়ে থাকেন। এখানে নিরাপত্তাহীনতা বলতে মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাহীনতা বোঝানো হচ্ছে। মানসিক নিরাপত্তাহীনতা হচ্ছে নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাসের অভাব, ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিশ্রুতিহীনতা এবং নিজেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়া। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে যে জীবনে কখনো ইনসিকিউরিটি সমস্যার সম্মুখীন হননি। ইনসিকিউরিটির মাত্রা আমরা একটু চেষ্টা করলেই কমিয়ে আনতে পারি। তাছাড়া আমাদের সামগ্রিক আচরণগুলো সম্পর্কে জানাও গুরুত্বপূর্ণ কেননা এর মাধ্যমে নিজেকে আরও অধিক মাত্রায় প্রডাক্টিভ করা যায়।

ইনসিকিউরিটির শুরু

বলা হয়ে থাকে, আমাদের আচরণ আমাদের সবচেয়ে নিকটস্থ পাঁচজন মানুষের আচরণের গড়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের হাত ধরে ইনসিকিউরিটির যাত্রা শুরু হয়। সন্তান প্রাথমিক জীবনে মা ও বাবার সাথেই বেশি সময় কাটায়। মা-বাবার জীবনের ইনসিকিউরিটিগুলো তাই সন্তানের মাঝে সঞ্চারিত হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে জীবনের কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বন্ধু-বান্ধবের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তবে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে পার্থক্য এই যে বন্ধু-বান্ধবদের আমরা নিজেরাই বেঁছে নিতে পারি। নিরাপত্তাহীনতা বোধ থেকে অতিরিক্ত চিন্তার জন্ম হয়, নার্ভাসনেস বাড়ে, একটা ভীতির মতো কাজ করে সর্বদা এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। পিতা-মাতা বন্ধুবান্ধব ছাড়াও সে ছোটবেলায় আরও যাদের সাথে মেলামেশা করে তাদের কাছ থেকে তার কাছে ইনসিকিউরিটি সঞ্চারিত হতে পারে। তাছাড়া বড় হবার পর অতীতের কোনো খারাপ স্মৃতিবিশেষ তাকে বারবার পেছনে ফিরে তাকাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। বর্তমানে ঘটে যাওয়া কোনো সমস্যাও এক্ষেত্রে দায়ী হতে পারে। একজন ইন্সিকিউরড ব্যক্তির মাঝে প্রত্যাখ্যাত হওয়া্র ভয় প্রবলভাবে কাজ করে। এছাড়াও নেগেটিভ চিন্তাধারা বেশি কাজ করতে থাকে এবং সবকিছুতে পার্ফেক্ট হবার বাসনাও তার ভেতর কাজ করতে পারে।

পরিবার থেকেই মূলত ইনসিকিউরিটির সূত্রপাত; Image Courtesy: Psyche Alive

ইনসিকিউরিটির কারণ

হারিয়ে ফেলার ভয়

সবকিছুই পরিবর্তনশীল। তবে নিরাপত্তাহীনতায় যারা ভুগে থাকেন তাদের কাছে ব্যাপারটি অত সোজা নয়। হারিয়ে ফেলার ভয় তাদের সবসময় কুড়ে কুড়ে খায়। এটাও নিরাপত্তাহীনতার একধরনের প্রকাশ। কোনো কিছুকে হারিয়ে ফেলার ভয় থাকলে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটাকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করা। তবে জীবন সর্বদা গতিশীল সেটা মাথায় রেখেই সকল পরিণতি মেনে নিতে হবে।

Image Courtesy: Dreams Time

আমি এখনো বড় হইনি

অনেক লোককেই নিজেকে এই কথাটা বলতে দেখা যায়। অনেকে নিজের ছোটবেলায় ফিরে যেতে চান তবে প্রকৃতির নিয়ম এখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মনে রাখতে হবে ছোট থেকে বড় হতে হতে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যেগুলো একান্তই আপনার অর্জন। খুব অল্প বয়সী একজন আর আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলি কখনো সমান হবে না। তাই তুলনায় গিয়ে শুধু শুধু নিজের ভেতরের অস্বস্তিটাকে আর বাড়াবেন না।

Image Courtesy: Cheez Burger

আমি আকর্ষণীয় নই

সৌন্দর্যের মাপকাঠি আমাদেরকে আমাদের এই সমাজ নিজেই নির্ধারণ করে দেয়। তবে সৌন্দর্য চিরকাল বজায় থাকবে না। হেলেন হান্ট বলেন, “সৌন্দর্য যে ক্ষণস্থায়ী, ফুলকে দেখেই তা উপলব্ধি করতে হবে”। আমাদের কখনও নিজেকে অসুন্দর বলে মেনে নেওয়া উচিত না। কেননা যোগ্যতার মাপকাঠিতে হয়তো আপনি তাদেরকে ইতোমধ্যে টপকে গেছেন অথবা একদিন ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

Image Courtesy: vice.com

আমাকে সবাই চেনে 

আসলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা খুব যান্ত্রিক হয়ে উঠেছি। বলা যেতে পারে কারও পক্ষেই আসল ‘আপনি’ কে চেনা সম্ভব না। আপনিই নিজেকে সবচেয়ে ভালো মত জানেন। শুধুমাত্র আপনিই আপনার সাথে নিজের বয়সের সমিপরিমাণ সময় কাটিয়েছেন।

Image Courtesy: helpguide.org

বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়তে সমস্যা

অনেকে বন্ধু ও আত্মীয়ের মাধ্যমে কখনো প্রতারণার শিকার হয়ে নতুন মানুষকে জীবনের স্বাগত জানাতে ভয় পায়। তবে সবাইকে একই দাড়িপাল্লায় দাঁড় করানো উচিত না। কথা বলুন, নতুন নতুন বন্ধু বানাতে চেষ্টা করুন।

Image Courtesy: Teen Vogue

মনে করি সবাই আমার চেয়ে খুশি

আমরা আসলেই কখনো কারো মনের কথা পড়তে পারিনা। আমাদের সমাজের জোকার ফেইসড অনেক মানুষকেই পাওয়া যাবে। তারা নিজের কষ্টকে বাইরের দুনিয়াকে দেখাতে চান না। তারা সবকিছুকেই হাসিমুখে বরণ করে নিতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তাই নিজের সাময়িক দুঃখে মুষড়ে পড়া চলবে না।

জোকার মুভিতে জোয়াকিন ফিনিক্স; Image Courtesy: The Daily Best

আমি কিছু বুঝতে পারছি না

প্রথমবার কারো কথা বা কাজ আপনি বুঝতে না-ই বা পারেন। তবে অনেকে বুঝতে না পারলেও সংকোচের কারণে জিজ্ঞেস করেন না। অনেক শিক্ষার্থীরাই যথাসময়ে প্রশ্ন না করার কারণে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়। প্রাচীন ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত চাণক্য সবসময় কোন কিছু জানার জন্য লজ্জা ত্যাগ করতে উপদেশ দিয়েছেন।

Image Courtesy: Michigan Health Blog

আমি জঘন্য লোক

পরিবারের সাথে অনেকেরই সম্পর্ক ভালো না থাকতে পারে। আবার বন্ধুদের মাঝেও কোনো কারণে আপনাকে কেউ অপছন্দ করতে পারে। আপনার মতে যদি আপনি ভালো লোক না হয়ে থাকেন তবে আপনি অবশ্যই নিজেকে পরিবর্তন করতে পারবেন। নিজেকে এর জন্য সময় দিতে হবে। তবে লোকে আপনাকে মন্দ বলে থাকলে সেটা যদি আপনি একান্তই নিজে থেকে মনে না করেন তাইলে ভালো। পাশ কাটিয়ে ফেলুন তাদের কথাকে। কেননা আপনি আপনাকে সবচেয়ে ভালো চেনেন। তাছাড়া সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারলে সেগুলোর সমাধান আপনার নিজের কাছেও বের করা আর কঠিন হবে না।

Image Courtesy: Astrogle

সুইসাইডাল চিন্তাভাবনা

এই ধরণের চিন্তাভাবনার পেছনে অনেকগুলো কারণ লুকিয়ে থাকে। তবে বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক জোরদার, নিজের প্রতি অপটিমিস্টিক মনোভাব, ক্ষমা করার প্রবণতা, নিজের শক্তিতে মনোযোগ, পছন্দের কাজ করা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করা আত্মহত্যার চিন্তা কে প্রশমিত করতে পারে।

Image Courtesy: Rise and Shine

আমাকে ছাড়াই ওরা ঘুরতে যায়

বর্তমান সময়ে অনেকেই এটা ভেবে থাকেন। আপনি চাইলেই সবার বন্ধু হতে পারবেন না। এক এক মানুষের বন্ধু বানানোর মাপকাঠি এক এক রকম হয়। এতে নিজেকে ছোট মনে করা অনুচিত। খেয়াল করলে দেখতে পারবেন ঘুরতে যাওয়া অনেক বন্ধুর মধ্যকার সম্পর্ক অনেকটা মেকি ধরনের হয়ে থাকতে পারে। আপনি আপনার নিজের পছন্দের বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন যারা প্রকৃত অর্থেই আপনাকে মূল্য দিতে জানে।

Image Courtesy: inspirations by Michele Chynoweth

আমার পরিস্থিতি কেউ বুঝতে পারবে না

আপনাকে সবচেয়ে বেশি আপনি নিজেই জানেন। কেউ যদি চেষ্টা করে তবে আপনাকে বুঝতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় লাগবে। তাই তার সাথে আপনার প্রচুর কথা বলতে হবে কিন্তু জাজমেন্টাল টাইপ লোকের সাথে কথা বললে এতে হিতে বিপরীত হতে পারে সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

Image Courtesy: Solve Church Problems

আমার শেয়ার করা অনুভূতি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়

সবার কাছে গিয়ে নিজের অনুভূতি শেয়ার না করাই উচিত। কেননা এতে গ্রহণযোগ্যতা কমতে পারে। আপনার বিশ্বস্ত কাউকে নিজের কথা বলবেন। যদি সেই বিশ্বস্ত মানুষটা না-ই থাকে তবে একটা জার্নাল বা ডায়েরিতে নিজের চিন্তাগুলো লিখে ফেলুন। দেখবেন এটা আপনার মনকে শান্তি দেবে।

Image Courtesy: Quickmeme

কথায় কথায় খোটা দেওয়া

আমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষকে পাওয়া যাবে যারা কথায় কথায় এমন কিছু বলে ফেলবে যাতে আপনি বিব্রত হয়ে যাবেন। সাধারণত এরা আপনার ধ্বংসাত্মক সমালোচক। এদের কাজ সাধারণত আপনাকে সাহায্য না করে বরং পেছনে ঠেলা। এরা নিজেরাই কিছু দিক দিয়ে ইনসিকিউরড। নিজের অপূর্ণতাকে চাপা দিতে তারা আপনাকে বিব্রত করার জন্য কিছু বলে দিতে পারে। তবে আপনি জানেন আপনার কাজ কি। সেই সমালোচককে শত্রু হিসেবে না দেখে তাদের কথাকে মতামত হিসেবে নিন। কেননা আপনি জানেন আপনি কী করছেন। কিছু জিনিসে উন্নতি করার সুযোগ আছে মনে করলে সেগুলায় আরেকটু মনোযোগ দিন।

Image Courtesy: Marketing91

নিজেকে একা ভাবা

আপনি কখনো একা নন। আপনি এমন মানুষ পেয়েই যাবেন যারা আপনাকে পছন্দ করে, যারা আপনার কোনো বিষয় নিয়ে কটাক্ষ না করে আপনাকে শেখাবে, অনুপ্রেরণা দিবে, ভালোবাসতে শেখাবে। এরকম মানুষ কোনো না কোনো ভাবে আপনি পেয়েই যাবেন।

Image Courtesy: Quora

সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাস

অনেকেই নিজের পার্টনারের ওপর বা বন্ধুদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না। এক্ষেত্রে কথা বলা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কেননা আমরা অনেক কিছুই ধরে নেই যেগুলো আদতে সত্য নয়। খোলামেলা আলোচনা একটা সম্পর্কের জন্য স্বাস্থ্যকর।

Image Courtesy: Dreams Time

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইর্ষা

আমার পোস্টে লাইক, কমেন্ট কম আসছে। ওর পোস্টে এংগেইজমেন্ট বেশি। আমি মানুষের মনোযোগ পাচ্ছি না। এরকম সমস্যা অনেকেরই হতে পারে তবে লাইক কমেন্ট এগুলোর বাস্তব মূল্য সেই লাইক কমেন্টেই সীমাবদ্ধ। আপনাকে আপনার শক্তির ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।

Image Courtesy: Omar Abu Omar

গালমন্দ করা

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা একটু চাপের পরিস্থিতিতে মাথা ঠিক রাখতে পারেন না। তাই তখন তারা গালমন্দ শুরু করে দেয়। গালমন্দ কখনোই কাউকে শক্তিশালী অনুভব করাতে পারে না। মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আরও কমে যায়। আমরা অনেকসময় রেগে গেলে গালমন্দ করি কিন্তু রাগ খুব ক্ষণস্থায়ী একটা অনুভূতি। চূড়ান্ত মুহূর্তে মুখে কিছুটা লাগাম লাগালে অথবা উল্টো করে দশ থেকে এক পর্যন্ত গোনা বা জোরে কয়েকবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে রাগের মাত্রা কমে যেতে পারে।

Image Courtesy: Clipart Station

এই কথাটা সে বলে দিবে না তো?

কিছু অভিজ্ঞতা মানুষের ওপর আস্থা রাখতে বা আমাদের ভাবতে বাধ্য করতে পারে। আপনার নিজের কিছু টপ সিক্রেট নিজের কাছে রেখে দিন। কেননা আজকে বিশ্বস্ত লোকটি ভবিষ্যতে রূপ পাল্টে ফেলতে পারে। আপনি বন্ধুদের সাথে কথাবার্তা শেয়ার করবেন তবে সবকিছুর একটা মাত্রা থাকা উচিত। ফেসবুকের পাসওয়ার্ড যেমন আপনি কাউকে বলেন না তেমনি গোপন কথাটি বলা উচিত না। আর বলিউড সেলিব্রেটি সালমান খান বলেছিলেন এমন কথা কাউকে বলা উচিত না যেটা সবাইকে বলতে পারবেন না।

Image Courtesy: Save Milwaukee Escape Rooms

নিজেকে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবা

এরা সাধারণত নিজেকে বেশি ভাবাতে চেষ্টা করে থাকে অর্থাৎ নিজেকে অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সবকিছুতে প্রতিযোগী মনোভাব গড়ে তুলতে চায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ইনসিকিউরিটি গোপন করতে তারা এ কাজগুলো করে। প্রতিযোগিতা কখনোই মন্দ নয় তবে জোর করে কারো ক্ষতি করার চেষ্টা বা মনে মনে কারো পতনের চিন্তা করা উচিত না।

Image Courtesy: WNYC

মাদক সেবন

আমরা দেখতে পাই শরৎচন্দ্রের দেবদাস মদ্যপানের নেশায় আসক্ত হয়ে মৃত্যু ডেকে আনে। মানসিক কোন আঘাতের কারণে অনেকে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। তখন সাময়িক সুখ ভোগ করতেই মাদকের অভ্যাসের দাস হয়ে পড়ে, যেটা তাদের জীবনীশক্তি নষ্ট করছে। তাকে এই নেশা থেকে বেরোনোর জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে দ্রুত।

Image Courtesy: Pngimg.com

মিথ্যা বলা

অনেককেই দেখা যায় তারা কোন কনফ্লিক্ট সিচুয়েশন এর চাপে অথবা ইচ্ছে করেই মিথ্যা কথা বলে থাকে। এতে সমস্যা হলো ভবিষ্যতে কীভাবে এবং কী মিথ্যা বলেছিল সেটা তার মাথায় রাখতে হয়। তার একটা মিথ্যা থেকেই অনেক সময় হাজারটা মিথ্যা কথার শুরু হয়। তাই যথাসম্ভব সত্যি কথা বলার অভ্যাস করা উচিত। আর যেসব বিষয় আসলেই টপ সিক্রেট সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

Image Courtesy: Vecteezy

ইনসিকিউরিটি থেকে পরিত্রাণের উপায়

সচেতনভাবে নিজের সাথে কথা বলা

আমরা নিজের সাথে কথা বলার সময় যা ইচ্ছা বলে ফেলি। যেমন আমি পারবোনা, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমি কোন কাজের না ইত্যাদি। এগুলো নেগেটিভ সেলফটক। এগুলো আমাদের উৎপাদনশীল ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এসব থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে। নিজেকে নিজেই মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা মনে করি লোকে হয়তো আমার ইনসিকিউরিটি সম্পর্কে জানেন, আসলে এটা সম্ভবই না বলা চলে। কেননা আপনি নিজে তাদের না বললে তাদের পক্ষে এটা বোঝা সম্ভবই না অনেকটা। আপনি নিজেই চেষ্টা করবেন আপনার ভেতরের কি কি বিষয় আপনাকে ভাবিয়ে তোলে তা খুঁজে বের করতে। আর নিজেকে জাজ করার অভ্যাসটা কমিয়ে ফেলুন।

Image Courtesy: Dreams Time

বিশ্বস্ত কোন মানুষের সাথে পরামর্শ করা

আপনার যদি নিজের ইনসিকিউরিটিগুলো সম্পর্কে সন্দেহ থাকে তবে এমন কোনো মানুষ যাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। যেহেতু মানুষটা আপনার বিশ্বস্ত তাই তার সাথে আপনার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। আপনি তাকে খুলে বলতে বলুন। আপনার শুনতে সেগুলো খারাপও লাগতে পারে তবে আপনার প্রয়োজন তো নিজের ইনসিকিউরিটিগুলো জেনে সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। সুতরাং নির্দ্বিধায় গ্রহণ করুন যেকোনো সমালোচনা।

Image Courtesy: Wikihow

ডায়েরি লেখা

নিজের চিন্তা-চেতনাকে লিখিতরূপ দেয়া নিঃসন্দেহে কোনো সহজ কাজ নয়। আপনি নিজের দুশ্চিন্তাগুলোকে একটি ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন। এটা অনেকটা নিজের চিন্তাগুলোকে আরেকটা জায়গায় স্থানান্তর করে দেওয়ার মতো। তাছাড়া নিজের ইনসিকিউরিটিগুলোকে লিখে ফেলুন। সেখানে আপনার ভয় পাবার কারণগুলো লিখুন। আপনি আপনার সমস্যা চিহ্নিত করতে পারলে সমাধানের পথ বের করা আরো সহজ হয়ে যাবে। সেখানে নিজের প্রশংসামূলক সত্য বাক্যও লিখুন।ডায়েরিটা হয়ে যাক আপনার সেলফ মোটিভেশন এর খোরাক।

Image Courtesy: Freepik

অতীত যে ফিরে আসে না সেটা অনুভব করা

আমরা অনেকে পেছনে ফেলে আসা কালের জন্য চিন্তা করতে করতে বর্তমানে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতেই ভুলে যাই। অতীতের ফিরে আসার কোনো ক্ষমতা নেই। নস্টালজিক চিন্তা করার দু’টি খারাপ দিক হলো, পেছনে ফেলে আসা দুঃসহ স্মৃতিগুলো মনে নতুন করে কষ্ট দেয় আর পেছনে সাফল্যের স্মৃতিগুলো বর্তমানে যদি আপনার মন খারাপ থাকে সেটাকে তা আরও অতিরঞ্জিত করে দিবে। এই কথাটি আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, অতীত আপনার জীবনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা । অতীতের ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতিগুলোকে বলুন- এগুলো থেকে আমি এই জিনিসগুলো শিখেছি এবং এই শিক্ষাগুলোকে ভবিষ্যতে কাজে লাগিয়ে আরো নতুন ভালো কিছু করবো। নিজের উপর হাসতে শিখুন, সবকিছুই সহজ হয়ে যাবে। পূর্বের ভুলের জন্য অনুশোচনা বন্ধ করে বর্তমানের মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগান।

রুটিন অনুযায়ী কাজ

ঘুম, খাবার, শারীরিক কসরত, লেখাপড়া, বিনোদন, কাজের জন্য প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট করে একটা রুটিন রাখা উচিত। এলোমেলো দৈনিক জীবন এলোমেলো জীবন গঠনে সহায়ক। শুরু করতে হবে আপনার ঘরটাকে গুছিয়ে ফেলবার মাধ্যমে। আপনার পরিপাটি ঘর আপনার জীবনটাকে একটা সুন্দর অর্ডারে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। বলা হয়ে থাকে কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে তিন সপ্তাহের মত সময় লাগে। আপনি সুস্থ দেহে সুস্থ মন গড়ে তুলতে আজই একটা রুটিন করে ফেলুন। সময় লাগবেই কিছুদিন। একটা সময় অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। নিজের বাজে অভ্যাস গুলোকে ভাল অভ্যাস দিয়ে, নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে পজিটিভ চিন্তা দিয়ে, অহেতুক চিন্তাগুলোকে প্রোডাক্টিভ চিন্তা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে ফেলতে ভুলবেন না।

Image Courtesy: The Spruce

মানসিক স্বাস্থ্য কখনোই উপেক্ষা করার মতো কোনো বিষয় না। শারীরিক ও মানসিকভাবে আমাদের সকলকে সুস্থ থাকার জন্য সচেষ্ট্ থাকতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেই ইনসিকিউরিটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হবে।

Feature Image Courtesy: swncdn.com

References: