মানসিক রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হল OCD। যার পূর্ণরূপ হলো Obsessive Compulsive Disorder। এটিকে শুচিবাই রোগও বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেশসহ বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ এই রোগে ভুগছেন। এ রোগে আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ রোগের ক্ষেত্রে রোগীর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্যে মনোচিকিৎসা একান্ত প্রয়োজন।

OCD বা শুচিবাই কী?

OCD মূলত এক ধরনের মানসিক ও স্নায়ুবিক রোগ। এই মানসিক রোগটিকে খুব সহজ বাংলায় বলা যায় ‘অযৌক্তিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তার আচ্ছন্নতা’। OCD শব্দটির মধ্যেই এই রোগটির সম্বন্ধে ধারনা পাওয়া যায়। এর মূল দুটি শব্দ Obsession এবং Compulsion। Obsessive বা obsession দ্বারা মূলত অযৌক্তিক তীব্র আচ্ছন্নতাকে বুঝায়। আর Compulsion হল Obsessive Thought বা অযৌক্তিক চিন্তা বা আচ্ছন্নতাকে দূর করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা অর্থাৎ এক্ষেত্রে রোগীর মানসিক অস্থিরতা প্রকাশ পায়। নানা ধরনের অযৌক্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবনা-চিন্তায় মন আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। রোগী নিজেও বুঝতে পারে যে এই চিন্তাগুলো অযৌক্তিক, এর কোন ভিত্তি নেই। সে এই চিন্তা সরাতে চেষ্টাও করে বা নিজের মনকে ঐ অযৌক্তিক বিষয় ভাবতে বাধা প্রদান করে, কিন্ত ব্যর্থ হয়। অবশেষে রোগী হতাশ হয়ে অস্থির হয়ে পড়ে।

শুচিবাই একটি মানসিক ও স্নায়ুবিক রোগ; Image Courtesy: Byjus

কারা OCD বা শুচিবাই রোগে আক্রান্ত হয়?

আমরা অনেকেই শুচিবাই রোগের ভুক্তভুগি হলেও এটা নিয়ে আমাদের অনেকের তেমন ধারনা নেই। OCD এর মতো মানসিক রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা অনুন্নত দেশের তুলনায় উন্নত দেশে অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, OCD বা শুচিবাই বিশ্বের সব থেকে মানব নিষ্ক্রিয়কারী (Human Disabling Diseases) ২০ টি রোগের একটি। এ রোগের ক্ষেত্রে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আক্রান্তের হারও প্রায় সমান। সকল বয়সের ব্যক্তিই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে; তবে ২০-৩৫ বছর বয়সী মানুষই এ রোগে অধিক আক্রান্ত হয়। ৩৫ বছর বয়সের পর OCD রোগে আক্রান্তের হার খুবই কম। বাচ্চাদেরও OCD হতে পারে। তবে, সেক্ষেত্রে Obsessive Thought বা অযৌক্তিক চিন্তাজনিত সমস্যা খুবই কম হয়। তাই বাচ্চাদের OCD নির্ণয় করাও বেশ কঠিন। এমনকি রোগটি তখন কোন ধরনের মেডিক্যাল পরীক্ষায়ও ধরা পড়ে না। তবে বাচ্চাদের চিন্তার বিকাশের সাথে সাথে Obsessive Thought বা অযৌক্তিক চিন্তাজনিত সমস্যাও সৃষ্টি হতে শুরু করে।

বাচ্চাদেরও OCD হতে পারে; Image Courtesy: familytimescny

OCD বা শুচিবাই রোগে আক্রান্ত হবার কারণসমূহ

* Genetic বা বংশগত: শুচিবাই রোগটিতে আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ জিনগত। সাধারণত বাবা-মার এ রোগটি থাকলে সন্তানেরও এ রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে।

* Environmental বা পরিবেশগত: অনেক সময় ব্যক্তি অতিরিক্ত কাজের চাপ, বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়। এ ধরনের অভিজ্ঞতা ব্যক্তির মনে অযৌক্তিক চিন্তার সৃষ্টি করে যা থেকে ব্যক্তি সহজে বের হয়ে আসতে পারে না। ফলে শুচিবাই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা দেখা দেয়। তাছাড়া, Neuro-structural বা মস্তিষ্কের গঠনজনিত সমস্যা এবং Neurochemical বা মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান জনিত সমস্যার জন্য OCD বা শুচিবাই হতে পারে।

সাধারণত তিনটি কারনে শুচিবাই রোগে ব্যাক্তি আক্রান্ত হতে পারে; Image Courtesy: northpointrecovery

OCD বা শুচিবাই রোগেরলক্ষণ সমূহ

শুচিবাই রোগে আক্রান্ত মানসিক রোগীরা সবসময় কোনো একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলার প্রতি একধরনের টান অনুভব করে। যেমন: কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়া, কোনো জিনিস বারবার পরীক্ষা করা (যেমন দরজায় তালা লাগালে বারবার সেটা বারবার এসে দেখা), নিজের জিনিসপত্র বারবার পরিষ্কার করা, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস একটা নির্দিষ্ট ছকে গুছিয়ে রাখা এবং সেই ছকে না থাকলে তীব্র বিরক্তি, রাগ প্রকাশ করা। এই ব্যাপারগুলো প্রথমদিকে খুব স্বাভাবিক মনে হলেও একটা পর্যায়ে এই ব্যাপারগুলো তার স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। তাছাড়া, OCD রোগী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণু নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকে এবং বারবার হাত ধুতে থাকে, গোসল করে এবং এসবের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। প্রচুর সাবান ও পানি অপচয় করে এসব কাজকর্মের জন্যে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এই অতিরিক্ত ধোয়া মোছার জন্য রোগী চর্মরোগেও আক্রান্ত হতে পারে। রোগী সাধারণত কাউকে তার গ্লাসে পানি খেতে দেন না। কেউ তার ঘরে ঢুকে পড়লে, বিছানায় বসলে বা অন্য কোন জিনিসপত্র ব্যবহার করলে বার বার এগুলো পরিষ্কার করতে থাকে। কিন্তু তারপর ও তার মন থেকে সন্দেহ যায় না। সে ভাবতেই থাকে এখনও ময়লা ঠিকভাবে যায়নি।

শুচিবাই রোগের লক্ষণ সমূহ; Image Courtesy: wrytin.com

অনেক সময় রোগী কাউকে আঘাত করার কথা চিন্তা করে, কখনো কখনো কাউকে ছুরিকাঘাত করার মত মারাত্মক চিন্তাও তার মাথায় আসতে পারে। রোগী নিজেও বুঝতে পারে তার এধরনের চিন্তাভাবনা অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক এবং ক্ষতিকারক। কিন্তু তারপরও এসব চিন্তা সে মাথা থেকে সরাতে পারেন না, এমনকি চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। যেমন: রোগীর সামনে ধারালো কোন কিছু থাকলে সে বার বার এটি দিয়ে কাউকে আঘাত করার কথা ভাবতে থাকবে। পরবর্তী সময় ভয়ে সে ধারালো বস্তুর সামনে যেতেই চায়না। আর যদি সে কাউকে আঘাত করে, তবে সে আত্মদংশনে ভুগতে থাকে, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় অস্থির হয়ে যায়। তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

শুচিবাই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্যকে আঘাত করার কথা ভাবতে পারে; Image Courtesy: bestlawhb.com

OCD রোগীদের মাথায় যৌনবিষয় নিয়ে নানাবিধ অশ্লীল ও আজে-বাজে চিন্তা আসে যা তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তো মিলেই না বরং পুরোপুরি বিপরীত হয়। যেমন: কোন রোগীর মাথায় বাচ্চার যৌনাঙ্গ নিয়ে অশ্লীল চিন্তা আসতে থাকে। অশ্লীল ছবিও সে ভাবতে থাকে। সে এটাকে অযৌক্তিক ভেবে সরানোর জন্য প্রাণপণ বাধা দেয় কিন্ত তা না পারায় ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়। আত্মগ্লানি ও আত্মদংশনে সে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। বিষণ্নতায় ভুগে রোগীর আত্মহত্যার চেষ্টাও বিরল নয়।

অনেকসময় ধর্মের বিরুদ্ধে, সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি হতে থাকে রোগীর মনে। যা তার সনাতন বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সে বুঝতে পারে তার এ চিন্তা অযৌক্তিক, সে তার মাথা থেকে এ চিন্তা বের করার চেষ্টাও করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। সে আত্মগ্লানিতে বা অনুশোচনায় মরে যেতে চায়। সে নিজেকে নাস্তিক ভাবতে শুরু করে। প্রায় সকল ধর্মাবলম্বীদের এই সমস্যা হয়। এই রোগীর থেকে নাস্তিকের পার্থক্য হল একজন নাস্তিক আত্মদহনে ভোগে না এবং তার কোনো অনুশোচনাও হয় না।

শুচিবাই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি নিজেকে নাস্তিক মনে করতে পারে; Image Courtesy: wallpaperaccess.com

OCD রোগী তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র তার নিজস্ব রীতিতে গুছিয়ে রাখে। কেউ এসব এলোমেলো করলে সে অনেক বেশি রেগে যায়, প্রচণ্ড অস্বস্তিবোধ করে যতক্ষণ না তা পূর্বেররূপে ফিরিয়ে আনা হয়। এদের হাঁটারভঙ্গিও সাধারন মানুষের থেকে ভিন্ন হয়। কোন সময় এ থেকে ব্যতিক্রম হলে আবার তারা প্রথম থেকে হাঁটা শুরু করেন। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলে Sequence. Sequence নষ্ট হলেই এরা অস্থির হয়ে পড়ে, আবার নতুন করে প্রথম থেকে শুরু করে। টাকা গণনা করার ক্ষেত্রে তাদের অনুসরিত বিশেষ পদ্ধতির একটু হেরফের হলেই অস্বস্তিতে ভোগে, অস্থির হয়ে যায়। এটাকে বলা হয় Counting Ritual। রোগী এই সমস্ত অস্বাভাবিকতা বুঝলেও এই বলয় থেকে বের হতে পারেনা।

আবার কেউ কেউ সবসময় মনে করে সে কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবেশিক তাড়না কাজ করে। যেমন: শিশুদের দেখলেই তার মনে হয় যে শিশুটি তাকে গলা টিপে মেরে ফেলবে, অথবা শিশুটি ট্রেনের নিচে পড়বে। এই রকম একেক জনের বেলায় একেক রকম উদাহরণ থাকে। বিশেষ কোনো স্থান বা অবস্থানকে কেন্দ্র করে রোগীর মনে অহেতুক ভয় কাজ করতে পারে। সবথেকে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে যে সকল OCD রোগী জানে যে সে যা ভাবছে বা চিন্তা করছে, তার বাস্তবতা নেই। এখানেই সিজোফ্রেনিয়া পেশেন্টদের সাথে ওসিডি পেশেন্টদের পার্থক্য। তার চিন্তাধারার কোনো বাস্তবতা নেই, এটা বুঝলেও সেই চিন্তাগুলোকে এই রোগীরা আটকাতে পারে না। তাদের চিন্তাধারার উপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অদ্ভুত সব চিন্তা যা তার দ্বারা করা সম্ভব নয়। এটাই সম্ভবত এই রোগের সবচেয়ে ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। ভেবে দেখুন, আপনি একটা বাচ্চাকে (সে আপনার নিজের সন্তান, ভাই-বোন হতে পারে) দেখে অকারণে ভয় পাচ্ছেন, তার কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন, আপনার মনে হচ্ছে সে আপনাকে মেরে ফেলবে, কিন্তু আপনি নিজেও জানেন যে আপনার এই চিন্তা সম্পূর্ণ অমূলক, অবাস্তব। কিন্তু তবুও আপনি সেই চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বা ভয়কে আটকাতে পারছেন না।

শুচিবাই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির নানা অমূলক ও অবাস্তব চিন্তা মাথায় আসে; Image Courtesy: santecenter.com

ওসিডির প্রভাব একেকজনের ক্ষেত্রে একেক ধরনের। প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর জীবনে ওসিডি লক্ষণ প্রথম প্রকাশ পায় যখন তাদের বয়স ২০ বছরের নিচে। এই ধরনের রোগীদের অনেক ধরণের সমস্যায় পড়তে হয়।

OCD বা শুচিবাই রোগের চিকিৎসা

যথাযথ সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে OCD রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। রোগমুক্তির পর আক্রান্তরা সুষ্ঠুভাবে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন। চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। সঠিক কাউন্সেলিং এবং ওষুধ এর মাধ্যমে রোগীর নানা অযৌক্তিক চিন্তার প্রবণতাকে দূর করার চেষ্টা চলে। এতে সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভবপর হয়। এখন আমরা OCD চিকিৎসায় প্রচলিত কিছু চিকিৎসা প্রদ্ধতি সম্বন্ধে জানবো।

(১) কগনিটিভ বিহেভেরিয়াল থেরাপি (Cognitive Behavioral Therapy/CBT)

OCD বা শুচিবাই এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সব থেকে কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে কগনিটিভ বিহেভেরিয়াল থেরাপি(CBT)। এ পদ্ধতিটি মূলত একটি কাউন্সেলিং কোর্স। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর চিন্তাভাবনার ত্রুটিকে শনাক্ত করে তা দুরীভূত করার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ কাউন্সিলর ব্যক্তির চিন্তা (Thought), অনুভূতি (Feelings), ব্যবহার বা আচরণ (Behavior) এ তিনটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। তার মধ্যে থাকা অবসাদ, দুশ্চিন্তা সহ সকল নেতিবাচক চিন্তাসমূহকে ইতিবাচক দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করেন। এর ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। ব্যক্তির অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা ও অনুভূতিজনিত সমস্যাই OCD এর মূল এবং এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যেহেতু এসকল অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা ও অনুভূতিকে ইতিবাচক দিকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়। তাই এ প্রক্রিয়া OCD বা শুচিবাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি কার্যকর।

শুচিবাই এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে CBT অন্যতম; Image Courtesy: klearminds.com

(২) Psychological Treatment বা মানসিক চিকিৎসা

OCD বা শুচিবাই মূলত এক ধরনের মানসিক ও স্নায়ুবিক রোগ তাই এর থেকে রক্ষায় বিভিন্ন কাউন্সেলিং বা মানসিক উন্নয়ন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেয়াই শ্রেয়। তাই এর চিকিৎসায় প্রচলিত কিছু ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হল।

(ক) Exposure and Response Prevention
এক্ষেত্রে রোগীকে তার অযৌক্তিক চিন্তা এবং কাজগুলো থেকে বিরত রাখা হয়। যেমন: রোগী ময়লায় বা ধুলা-বালুতে হাত দেবে কিন্তু তাকে বার বার হাত ধুতে বাঁধা দেওয়া হবে।

(খ) Thought Stopping

এক্ষেত্রে যখনই অযৌক্তিক চিন্তা রোগীর মাথায় আসে তখনই তাকে এ থেকে বিরত থাকার পদ্ধতি শিখানো হয়। এতে সে ভাবনা থেকে দূরে সরে আসে।

(গ) Thought Satiation
এক্ষেত্রে রোগীকে অস্বাভাবিক চিন্তাগুলোকে বার বার খাতায় লেখার অভ্যাস করানো হয় এবং দিন শেষে ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট অস্বাভাবিক চিন্তা মোট কতবার করেছে তা দেখানো হয়। যেমন: রোগী কতবার হাত ধুলো তা লিপিবদ্ধ করা হয় এবং দিন শেষে তার পরিমাণ শুনানো হয়। এতে রোগী বুঝতে পারে তার চিন্তাটা কতটা অস্বাভাবিক এবং এতে রোগীর সংবেদনশীলতা অনেকাংশে কমে যায়। ফলে সে নিজে থেকে এই ধরনের কাজ থেকে দূরে সরে আসার চেষ্টা করে।

(ঘ) Relaxation Training OCD বা শুচিবাই এর চিকিৎসায় শিথিলায়ন এবং মেডিটেশনও যথেষ্ট কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।

মেডিটেশন শুচিবাই রোগ নিরাময়ে সহায়ক; Image Courtesy: mindful

OCD বা শুচিবাই চিকিৎসায় অনেক ধরনের শিথিলকরণ ওষুধও দেয়া হয়ে থাকে। যেমন: বেনজোডিয়াজেপাইন, এই শ্রেণির ওষুধগুলোর মূল কাজ হল সহ্যশক্তি এবং আত্ননির্ভরতা গড়ে তোলা। এ ঔষুধগুলো মূলত ব্যক্তির স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে এবং ক্লান্তি ভাব নিয়ে আসে। তাই ইনসোমনিয়া চিকিৎসায় এই শ্রেণির ঔষুধগুলি বেশ কার্যকর। তবে বেনজোডিয়াজেপাইন শ্রেণির ওষুধ সাধারণত স্বল্পকালীন সময়ের জন্য দেয়া হয়ে থাকে, তিন সপ্তাহের বেশি দেয়া হয় না। এটি মূলত রোগীর মনের অস্থিরতা কমায়।

শিথিলকরণ ওষুধ (Benzathine Penicillin) শুচিবাই রোগ নিরাময়ে সহায়ক; Image Courtesy: Indiamart

এক্ষেত্রে, রোগীকে তার বয়স, যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী একটু কম চাপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তাছাড়া, এর প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে DBS (Deep Brain Stimulation) এবং ECT (Electro Convulsive Therapy) বা বৈদ্যুতিক চিকিৎসা। ওসিডি রোগীরা সবসময় একধরনের মারাত্মক ডিপ্রেশনে ভোগে। যে কোন ধরনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস তাদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। মানসিক চাপে থাকলে তাদের সিম্পটমগুলো খুব বেশি আকারে প্রকাশ পায়। এমনকি অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। তাই এক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। একজন ওসিডি রোগী প্রায় সারাজীবন নিজের স্নায়বিক প্রবৃত্তির সাথে একধরণের যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। এর চিকিৎসা হলো অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট আর কাউন্সেলিং। যেহেতু ওসিডি রোগীরা মানসিকভাবে অনেক দূর্বল হয়ে থাকে, তাই তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব অর্থাৎ তার কাছের মানুষেরা এই ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এই রোগীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে পারে।

Feature Image Courtesy: news.weku.io