পাবলিক স্পিকিং

অসংখ্য মানুষের জনসভা। সামনে বিশাল উঁচু ষ্টেজ। ষ্টেজে বসে আছে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। একজনের পর একজন ষ্টেজে বক্তৃতা দিচ্ছে। বক্তাদের বক্তৃতা শুনে অসংখ্য শ্রোতা কখনো খুশিতে হাততালি দিচ্ছে আবার কখনো দুঃখে নীরব হয়ে যাচ্ছে। কখনও বক্তার সাথে শ্রোতা সম্মতি জ্ঞাপন করছে, আবার কখনও শ্রোতা বক্তার মন্তব্যর বিরোধিতা করছে। এমন দৃশ্যর সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। এই যে অসংখ্য শ্রোতার মাঝে একজন বক্তা তার বক্তব্য তুলে ধরে, একেই বলে পাবলিক স্পিকিং।

পাবলিক স্পিকিং কেন শিখবো?

একবিংশ শতাব্দীর তুমুল প্রতিযোগিতার যুগে একজন ব্যাক্তির শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই হয় না। পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের বাইরে নিজেকে আলাদাভাবে তুলে ধরতে নানা ধরণের সফট স্কিল আয়ত্ত করতে হয়। আর এই নানা ধরণের সফট স্কিলের মধ্যে পাবলিক স্পিকিং অন্যতম প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে যারা নেতৃত্বদানের গুণাবলী আয়ত্ত করতে চায় তাদের পাবলিক স্পিকিং মেথড আয়ত্ত করার বিকল্প নেই। সফট স্কিল হিসেবে পাবলিক স্পিকিং একজন ব্যাক্তিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এই স্কিল আয়ত্তের মাধ্যমে যেকোনো ব্যাক্তি খুব সহজেই যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে নিজেকে অন্যর সামনে তুলে ধরতে পারে। এছাড়াও নিজের মতামত বিশাল জনগোষ্ঠীর নিকট তুলে ধরা, নিজের মতামতের পক্ষে জনসমর্থন আদায়, অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে পাবলিক স্পিকিং এর বিকল্প নেই।

আব্রাহাম লিঙ্কনের বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণের উপর একটি আর্ট; Image Courtesy: www.smithsonianmag.com

পৃথিবীতে যত বড় বড় নেতা ছিল বা আছে, সবাই ভালো পাবলিক স্পিকার। মার্টিন লুথার কিং, আব্রাহাম লিঙ্কনের, শেখ মুজিবর রহমানসহ বিশ্বের সকল বিখ্যাত নেতাদের বক্তৃতা শুনলে বোঝা যায় যে তারা কত অসাধারণ পাবলিক স্পিকার। তারা তাদের পাবলিক স্পিকিং এর মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের পাবলিক স্পিচে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। নিজের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন করেছিল নিজ মাতৃভূমিকে। এছাড়াও পৃথিবীর সকল সফল ব্যাক্তিদের বক্তৃতা শুনলে বোঝা যায় তারাও খুব ভালো পাবলিক স্পিকার। স্টিভ জবস, বিল গেটস, জ্যাক মা এর কয়েক মিনিটের বক্তৃতা শোনার জন্য বিশ্বের সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে। আবার তাদের এই বক্তব্যগুলো ফেসবুকে, ইউটিউবে কোটি কোটি ভিউ হয়, সেই ভিডিও দেখে কোটি কোটি মানুষ অনুপ্রাণিত হয়। পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যাক্তি ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, “You can improve your value by 50% just by learning communication skills and public speaking.” তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ভালো লিডার হওয়ার জন্য নানা ধরণের সফট স্কিল থাকতে হয়। আর এর মধ্যে পাবলিক স্পিকিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।

১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত ভাষণ; Image Courtesy: abac-bd.com

পাবলিক স্পিকিং এর ধাপসমূহ

সবাই ঠিক একই রকম ভাবে পাবলিক স্পিকিং করতে পারে না। অনেকের পাবলিক স্পিকিং শ্রোতাদের মাঝে খুবই জনপ্রিয় হয়, আবার অনেকের পাবলিক স্পিকিং শ্রোতাদের মাঝে খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারে না। এর কারণ হচ্ছে পাবলিক স্পিকিং এর ধাপসমূহ সম্পর্কে না জানা কিংবা না মানা। পাবলিক স্পিকিং মূলত একটি আর্ট। নির্দিষ্ট কিছু রুলস ফলো করলে পাবলিক স্পিকিং আরও বেশি প্রানবন্ত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তাই ভালো পাবলিক স্পিচ দেয়ার জন্য অবশ্যই বেশ কিছু রুলস ফলো করতে হবে। অন্যথায় সেই স্পিচ খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারবে না এবং পাবলিক স্পিকিং এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

পাবলিক স্পিকিং এর পূর্ব প্রস্তুতি

পাবলিক স্পিকিং এর আগে একজন বক্তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনীয় পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া ভালো পাবলিক স্পিচ দেয়া সম্ভব না। পাবলিক স্পিকিং এর পূর্ব প্রস্তুতির মধ্যে সর্বপ্রথম আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কোন বিষয়ে কেন পাবলিক স্পিচ দিবেন। পাবলিক স্পিকিং এর বিষয় ঠিক করার পর সে বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে। আপনার বক্তৃতার বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের পর আপনি মনে মনে অথবা লিখিত আকারে বক্তৃতার একটা স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে নেবেন। এক্ষেত্রে বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট সাজানোর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই শ্রোতাদের সম্পর্কে জানতে হবে। শ্রোতাদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাষাগত জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট সাজাতে হবে। একইসাথে বক্তৃতা তথ্যবহুল, মোটিভেশনাল, আনন্দদায়ক না অনুধাবনমূলক হবে সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট সাজানোর পর নিজে নিজে কয়েকবার অবশ্যই সেই বক্তৃতা অনুশীলন করতে হবে। নিজে নিজে বক্তৃতা অনুশীলন ছাড়া কোনোভাবেই ভালো বক্তৃতা দেয়া সম্ভব না। নিজে নিজে বক্তৃতা দেয়ার সময় অবশ্যই নিজে দৈহিক ও মৌখিক ভঙ্গির দিকে নজর রাখতে হবে এবং কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়াও বক্তৃতা দেয়ার জন্য ঠিক কতো সময় পাওয়া যাবে তা জানতে হবে এবং এবং সেই সময় অনুযায়ী বক্তৃতাকে সাজাতে হবে।

আয়নার সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে অনুশীলন; Image Courtesy: wikihow.com

পাবলিক স্পিকিং এর ঠিকপূর্ব মুহূর্তে করণীয়

একটি ভালো পাবলিক স্পিকিং এর জন্য এর পূর্ব মুহূর্তের প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে বক্তৃতা দিতে হবে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পোঁছানোই ভালো। উক্ত স্থানে আগে যেয়ে সে জায়গার পরিবেশগত ধারনা নেয়া জরুরী। সেখানে কি পরিমান শ্রোতা রয়েছে, অন্য আরও কোন কোন বক্তা রয়েছে, ঠিক কখন ও কোথায় বক্তৃতা দিতে হবে সে বিষয়গুলো যাচাই করে নিতে হবে। এছাড়াও পাবলিক স্পিকিং এর ক্ষেত্রে মাইক, সাউন্ড বক্সসহ নানা সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হয়। বক্তৃতা শুরুর পূর্বেই সেই সকল সরঞ্জামাদি ঠিক আছে কিনা সেটি যাচাই করে নিতে হবে। বক্তৃতার সময় টেকনিক্যাল সমস্যা বক্তৃতার জৌলুশ নষ্ট করে। এছাড়াও বক্তৃতা শুরুর পূর্বে শেষবারের মতো নিজের স্ক্রিপ্টকে মনে মনে চূড়ান্তভাবে গুছিয়ে নিতে হয়। বক্তৃতা শুরুর আগে নিরিবিলিতে একবার অনুশীলন করে নিলে ভালো হয়।

Image Courtesy: socialsamosa.com

পাবলিক স্পিকিং এর সময় করণীয়

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, পাবলিক স্পিকিং মূলত একটি আর্ট। তাই প্রত্যেক স্পিকার এক একজন শিল্পী। প্রত্যেক স্পিকারের কিছু আলাদা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থাকবেই। তবুও পাবলিক স্পিকিং এর সময় বেশ কিছু নির্দেশনা মানা দরকার।

একটি বক্তৃতা কীভাবে শুরু হচ্ছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজ নিজ সুবিধামতো নানাভাবে বক্তৃতা শুরু করে থাকে। তবে বক্তৃতা শুরু করার কিছু কার্যকরী উপায় রয়েছে। একটি ছোট গল্প, কোন বিখ্যাত কথা, শ্রোতাদের উদ্দেশে কোনো প্রশ্ন, কোনো চমৎকার তথ্য বা পরিসংখ্যান, ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি দিয়ে বক্তব্য শুরু করা যেতে পারে। এতে করে প্রথমেই শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষিত হয়। অন্যদিকে প্রথমেই আপনার বক্তৃতায় লুজ স্টার্টিং হলে শ্রোতারা তাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। তখন পুনরায় শ্রোতাদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনা খুবই কষ্টকর।

বক্তৃতা দেয়ার সময় নিজের বডি ল্যাংগুয়েজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনি কি বলছেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি আপনি কথাগুলো কীভাবে বলছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।  কথার পাশাপাশি নিজের অঙ্গভঙ্গি যাতে ঠিক থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। এছাড়াও বক্তৃতা দেয়ার সময় নিজের কণ্ঠস্বরের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয় ভাব প্রকাশের জন্য কণ্ঠস্বরের মাধুর্যতা ধরে রাখতে হবে।

পাবলিক স্পিকিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখা। বক্তৃতার পুরোটা সময় যাতে শ্রোতারা আপনার কথা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শোনে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখতে কথার মধ্যে প্রয়োজনে হিউমার নিয়ে আসতে হবে। একইসাথে মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময় পর পর নানা প্রশ্ন, ছোট গল্প ইত্যাদি দিয়ে শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা যায়।

Image Courtesy: nrbdotblog.wordpress.com

পাবলিক স্পিকিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত বক্তার কথা বলার একটা নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম বা ষ্টেজ থাকে। সেই প্লাটফর্ম বা ষ্টেজের এক জায়গায় স্থির ভাবে কথা বললে শ্রোতারা মূলত বক্তব্য থেকে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। তাই কথা বলার সময় বক্তাকে তার ষ্টেজের পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। একইসাথে ক্ষেত্রবিশেষে শ্রোতাদের সাথে ৪৫ ডিগ্রী কোনে দাড়িয়ে বক্তৃতা দিলেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

একটি বক্তৃতার শুরু যেমন খুব ভালোভাবে করতে হয়, ঠিক একইভাবে বক্তৃতার শেষটাও ভালোভাবে করতে হয়। বক্তৃতার শেষে পুরো বক্তৃতার সারমর্ম সংক্ষেপে তুলে ধরে বক্তৃতা শেষ করাই ভালো। এতে করে শ্রোতারা বক্তার কথার সারমর্ম বুঝতে পারে। এটা অবশ্যই মনে রাখা জরুরী যে, বক্তৃতার শেষ অংশ যদি সাদামাটা হয় তবে পুরো বক্তৃতাই কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।

পাবলিক স্পিকিং এর শেষে করণীয়

বক্তার বক্তৃতা দেয়া শেষ মানেই যে পাবলিক স্পিকিং দেয়া শেষ তা কিন্তু নয়। বক্তব্য শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বক্তার ষ্টেজ ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। নিজের বক্তব্য শেষ করার পর বক্তার শ্রোতাদের রেস্পন্সের অপেক্ষা করা উচিত। শ্রোতারা যদি করতালি দিয়ে তার বক্তব্যকে অভিবাদন জানায় তবে তা বিনয়ের সাথে হাস্যউজ্জ্বলভাবে গ্রহণ করতে হবে। শ্রোতাদের যদি বক্তার বক্তব্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে তবে তা বিনয়ের সাথে গ্রহণ করা উচিত। শ্রোতার প্রশ্ন গঠনমূলক হোক বা না হোক, পাবলিক স্পিকারকে অবশ্যই সুন্দরভাবে গুছিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বক্তাকে সন্তুষ্ট করতে হবে।   

ভালো পাবলিক স্পিকিং এর জন্য কিছু কার্যকরী টিপস

মানুষের মধ্যে কেউ বেশি কথা বলতে পছন্দ করে, আবার কেউ কম কথা বলতে পছন্দ করে। যারা কম কথা বলে তাদের মধ্যে অনেক সময় জড়তা কাজ করে। অন্যদিকে যারা বেশি কথা বলে তারাও অনেক সময় অপরিচিত বা বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে কথা বলার সময় জড়তায় ভোগে। যেহেতু পাবলিক স্পিকিং এ বহু সংখ্যক মানুষের সামনে ফরমালভাবে বক্তৃতা দিতে হয়, তাই সকলের ক্ষেত্রেই কমবেশি ভীতি বা জড়তা কাজ করা স্বাভাবিক। পাবলিক স্পিকিং এর ক্ষেত্রে সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক, অঙ্গভঙ্গিজনিত ও উচ্চারণগত জড়তা দেখা দেয়।

পাবলিক স্পিচ দেয়ার সময় ভীতি; Image Courtesy: alltop.com

মনস্তাত্ত্বিক জড়তা বা ভীতি কাটানোর জন্য যথাসম্ভব অনুশীলন করতে হবে। পাবলিক স্পিকিং কোনো তত্ত্বীয় বিষয় নয় যে এ বিষয়ে জানলে বা পড়লেই শেখা হয়ে যাবে। এটি মূলত একটি ব্যবহারিক বিষয়। তাই যথাসম্ভব অনুশীলনের মাধ্যমে এই স্কিল আয়ত্ত করতে হবে। যে যত বেশি বক্তৃতা দেবে ও বক্তৃতা দেবার অনুশীলন করবে, সে পাবলিক স্পিকিং স্কিল তত সহজে ও দ্রুত আয়ত্ত করতে পারবে।

মুখের জড়তাকে কাটিয়ে ভুল উচ্চারণ ও আঞ্চলিকতাকে পরিহার করার জন্য ভাষার শুদ্ধ ও প্রমিত উচ্চারণ সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেটি বার বার অনুশীলন করতে হবে। এক্ষেত্রে বাসায় জোরে জোরে সংবাদপত্র বা বই পড়ার পরামর্শ ভালো ফলাফল দেয়। অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে এবং যখন যেখানে সুযোগ পাওয়া যাবে সেখানেই বক্তৃতা দিতে হবে।

অঙ্গভঙ্গিজনিত জড়তা কাটিয়ে উঠার জন্য বাসায় আয়নার সামনে দাড়িয়ে কিংবা ভিডিও করে নিজ বক্তৃতা নিজেই দেখা যায়। এতে করে নিজের অবাচনিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে। এইভাবে নিজের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও ভাষাগত ভুলগুলো খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায়।

Image Courtesy: mypeoplenow.com

একজন ভালো পাবলিক স্পিকার হওয়ার জন্য অবশ্যই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আনতে হবে এবং সকল ধরণের নেতিবাচক ধারণা থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার মাধ্যমে বক্তৃতার বিষয় সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। বাচনিক যোগাযোগের পাশাপাশি কার্যকরী অবাচনিক যোগাযোগের স্কিল যথাসম্ভব আয়ত্ত করতে হবে। শ্রোতাদের চাহিদা বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট নির্বাচন করতে হবে। যারা ভালো পাবলিক স্পিকার তাদের কথা বলার ধরণ ও কৌশল, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি দেখেও অনেক কৌশল আয়ত্ত করা যায়। বক্তৃতার পুরো সময় শ্রোতাদের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখায় কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। এই সকল বিষয়গুলো যদি কার্যকরভাবে আয়ত্ত করা যায়, তবে খুব সহজেই ভালো পাবলিক স্পিকার হওয়া সম্ভব।  



Feature Image: ffmushop.com
Reference: The School For Presentation And Public Speaking  (SPPS