শুধু একদিনের জন্য ফুটবলের মহানায়ক হয়ে উঠেছিলেন যারা

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের কথা কমবেশি সবারই মনে থাকার কথা। বিশেষ করে ফ্রান্স-ইতালির মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি। জিনেদিন জিদান সেই ম্যাচে মাতেরেজ্জিকে হেডবাট করে লালকার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের কথা বললেই এখনো অনেকের চোখে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্য। 

ফ্যাবিও গ্রোসো ছিলেন ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক। ফাইনাল ম্যাচটি যখন পেনাল্টি শ্যুট আউটে গড়ায়, পঞ্চম ও শেষবারের বার পেনাল্টি নিতে এসেছিলেন তিনি। ফ্যাবিও গ্রোসোর গোলেই নিশ্চিত হয়েছিল ইতালির চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়। এই ম্যাচের পরে ইতালিয়ানদের কাছে পাকাপাকিভাবে ‘কিংবদন্তি’র তকমাও পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। 

‘ড্যানিয়েল ডি রসি চতুর্থবারের বার শ্যুট নিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে সে তার মত বদলায়। ডি রসি তৃতীয় পেনাল্টি শ্যুট নেয় আর পরেরবারেরটা আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরের জন্য রেখে দেয়’, সেদিন রাতে ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা করেন ইতালির কোচ মার্সেলো লিপ্পি। “পঞ্চমবারের বার কে শ্যুট নিতে আসবে, সে বিষয়ে সবাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। আমি ফ্যাবিওর দিকে তাকালাম এবং বললাম, ‘ফ্যাবিও, পঞ্চম শ্যুটটা তুমি করতে যাচ্ছো’। ফ্যাবিও চমকে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলো, ‘আমি?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, তুমি।’ 

ফ্যাবিওকেই পঞ্চমবার শ্যুট নিতে পাঠানোর পেছনে কারণ ছিল। এর আগে সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯০ মিনিটের মাথায় পেনাল্টিতে গোল করেছিলো। এরপরে জার্মানির বিপক্ষেও ১১৮ মিনিটের মাথায় গোল করেছিলো। চাপের মুখে ও ভালো খেলতে পারে, যেটা হয়তো ও নিজেও উপলব্ধি করে নি। আমি শুধু ওকে বলেছিলাম, ‘শেষ শ্যুটটা তুমিই নিতে যাচ্ছো। সবকিছু ঠিক থাকবে, চিন্তা করো না।’ ফ্যাবিও শুধু বলেছিল ‘বেশ’।” 

ফ্যাবিও গ্রোসো; Image Courtesy: Getty Image

ফাইনাল ম্যাচের সেই গোলের পর স্পটলাইটে চলে এলেন ফ্যাবিও গ্রোসো। এত বেশি পরিচিতি আর জনপ্রিয়তার সাথে আগে কখনোই অভ্যস্ততা ছিল না তার। তবে ফ্যাবিও গ্রোসোই ফুটবল বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার নন, যিনি কি-না একটি ম্যাচের পরেই রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে উঠে গিয়েছিলেন। এরকম বেশ কিছু ম্যাচ রয়েছে, যেখানে বেশ কিছু  খেলোয়াড়ের নায়কোচিত পার্ফম্যান্সের উপর ভিত্তি করেই দল জিতেছে বড় কোনো টুর্নামেন্ট। অথচ পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে হয়তো মনে রাখার মত কোনো পার্ফম্যান্স ছিল না তাদের। এমনকি হয়তো সেই বিশেষ একদিনের পরেও আর কখনো নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেন নি। তেমনই কিছু ফুটবল ম্যাচ ও ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে লেখাটি। 

ফ্যাবিও গ্রোসো২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনাল

২০০৬ সালে পালেরমোকে উয়েফা কাপে কোয়ালিফাই করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ফ্যাবিও গ্রোসো। পালেরমোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। মার্সেলো লিপ্পির চোখে পড়তে তাই দেরি হয় নি, ডাক পেয়ে যান বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। ফ্যাবিও ক্যানাভারো, জিয়ানলুকা জ্যামব্রোতা, মারিও মাতেরেজ্জি এবং আলেসান্দ্রো নেস্তার সঙ্গে প্রায়ই স্টার্টিং ইলেভেনে খেলতে নামছিলেন।  বিশ্বকাপটা দারুণ গিয়েছিলো ফ্যাবিওর। পুরো

বিশ্বকাপজুড়ে ইতালির জালে বল ঢুকেছিলো মাত্র দুইবার। এরকম দুর্ভেদ্য ডিফেন্স তৈরি হয়েছিল ফ্যাবিও গ্রোসো, মাতেরেজ্জি, নেস্তা, বুফনদের উপর কাঁধে ভর করেই। বিশ্বকাপের দুটি মুহুর্তের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। প্রথমত জার্মানির বিপক্ষে স্নায়ুক্ষয়ী সেমিফাইনাল ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে গোল করে দলকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ত অবশ্যই ফ্যাবিয়েন বার্টহেজকে পরাস্ত করে পেনাল্টি শ্যুট আউটের সেই গোলটি। যদিও বিশ্বকাপ জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্ব ফ্যাবিও ক্যানাভারো, ফ্রান্সেসকো টট্টি, আন্দ্রে পিরলো, গিয়ানলুইগি বুফনদের কাছেই যায়, কিন্তু বিশ্বকাপে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ফ্যাবিও গ্রোসো। 

২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্যাবিও গ্রোসোর পেনাল্টি শ্যুট আউটে গোল করার মুহূর্ত; Image Courtesy: cbslocal.com

এরপরের মৌসুমে, ২০০৬-০৭ সালে গ্রোসো ইন্টার মিলানে যোগ দেন। সেখানে এক বছর কাটানোর পর ফরাসি ক্লাব লিওতে যোগ দেন। এরপরেও ইতালির হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু আর কখনো সেভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন নি। ২০১৭ সালে তিনি ফুটবল কোচ বনে যান। বারি এবং হেলাস ভেরোনায় কিছু সময় কাটানোর পর তিনি ব্রেসিয়াতে যোগ দেন। 

এডার – উয়েফা ইউরো ২০১৬ ফাইনাল

২০১৬ সালে পর্তুগালের ইউরো জয় ছিল অনেকটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। এই ইউরো জয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো মুখ্য ভূমিকায় থাকলেও, ফাইনাল ম্যাচে সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন এডার। 

পর্তুগিজ এই স্ট্রাইকার নিজ দেশের অনেকগুলো ক্লাবেই খেলেছিলেন, কিন্তু লম্বা সময় কাটাতে পারেন নি কোথাওই। ক্যারিয়ারের তখনও পর্যন্ত সেরা সময় গেছে স্পোর্টিং ব্রাগার সাথে। ব্রাগার হয়ে ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত তিন মৌসুমে ৬০ টি ম্যাচ খেলে ২৬ টি গোল করেছিলেন। এরপর তিনি সোয়ানসি সিটিতে খেলার ডাক পান। দেশ বদলালেও ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি তাকে; সেখানে হতাশাজনক ছয় মাস কাটানোর পর এডার ধারে ফরাসি ক্লাব লিলিতে যোগ দেন, ২০১৬ ইউরোর ঠিক আগে আগে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সাথে এডার; Image Courtesy: espncdn.com

ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে বেঞ্চেই বসে ছিলেন এডার। ম্যাচের শুরু থেকে কোনোকিছুই যেন পর্তুগিজদের পক্ষে যাচ্ছিলো না। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ইনজুরড হয়ে যান। তার পরিবর্তে খেলতে নামেন রিকার্ডো কোয়ারেশিমা। রেনাতো সানচেজের বদলি হিসেবে ম্যাচের ৭৯ মিনিটের মাথায় মাঠে নামেন এডার। এর আগে পর্তুগালের হয়ে তিনি মাত্র তিন গোল করেছিলেন। ফ্রান্স একের পর এক সুযোগ পেলেও গোল করতে পারছিলো না কিছুতেই। গোলশূন্য ৯০ মিনিট শেষে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ১০৯ মিনিটের মাথায় নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চতুর্থ গোলটি করেন এডার। আর পর্তুগাল পেয়ে যায় তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা। 

এরপরে অল্প কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন এডার। পর্তুগালের হয়ে তিনি এরপর আর মাত্র একটিই গোল করতে পেরেছিলেন। পর্তুগালের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ৫ টি গোল তার। এমনকি ক্লাবের হয়েও গোলখরা তার কাটেনি আর সেভাবে কখনো। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত লিলি এবং এরপর লোকোমোটিভ মস্কোর হয়ে চার বছরে মাত্র ২২ টি গোল করতে পেরেছেন। 

উয়েফা ইউরো ২০১৬ কাপ হাতে এডার; Image Courtesy: etimg.com

ইলহান ম্যানসিজ –  ২০০২ সাউথ কোরিয়া / জাপান বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল 

তুর্কি বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার ইলহান ম্যানসিজের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিলো জার্মানির ক্লাব এফ সি কোলনে। এরপর বিভিন্ন সময়ে জার্মানির বিভিন্ন ক্লাবে খেলে অল্প বিস্তর পরিচিতি পান। ২০০১ সালে তিনি তুরস্কের ক্লাব বেসিকটাসে যোগ দেন। তিন মৌসুম কাটান তিনি সেখানে। প্রথম মৌসুমেই তিনি দেখিয়ে দেন, জার্মানিতে ফুটবলটা তিনি বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন।  ৩৪ ম্যাচে ২৪ গোল করে এরিফ এরডেমের সঙ্গে যৌথভাবে ঐ মৌসুমে তিনি সুপার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। আর ডাক পেয়ে যান ২০০২ বিশ্বকাপের জন্য তুরস্ক জাতীয় দলে।

ইলহান ম্যানসিজ; Image Courtesy: akamaized.net

ঐ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে ইলহান ম্যানসিজ নিজেকে চিনিয়েছিলেন বিশ্ববাসীর কাছে। প্রথমত, সেনেগালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের শেষ ‘গোল্ডেন গোল’ টি করেন। ৬৭ মিনিটের মাথায় হাকান শুকুরের বদলি হিসেবে খেলতে নামেন তিনি। ম্যাচের ৯৪ মিনিটের মাথায় টনি সিলভাকে কাটিয়ে তার করা সেই গোলের সুবাদেই তুরস্ক সেমিফাইনালে উঠে যায়। দ্বিতীয়ত, এর কয়েকদিন পর সহ-আয়োজক দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে তিনি জোড়াগোল করেন। এই ম্যাচেই ১১ সেকেন্ডের মাথায় হাকান শুকুর বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলটি করেন। তাকে এসিস্ট করেছিলেন ইলহান ম্যানসিজ। মূলত ইলহান ম্যানসিজের একক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান লাভ করে তুরস্ক।

সেনেগালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করার পরে ইলহান ম্যানসিজ; Image Courtesy: sportskeeda.com

এরপরে হাঁটুর ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারটা ছারখার হয়ে যায় তার। এডারের মত তিনিও তুরস্কের হয়ে ঐ বিশ্বকাপের পরে আর মাত্র একটি গোলই করতে পেরেছিলেন। তুরস্কের হয়ে মোট ২১ ম্যাচে ৭ টি গোল করেছেন তিনি।  

২০০৭ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপরেও তিনি ২০০৮-০৯ সালে জার্মান ক্লাব টি এস ভি ১৮৬০ মিউনিখের হয়ে ফুটবলে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি অবসরে যান। 

স্যালভাটোরে স্কিলাচি১৯৯০ বিশ্বকাপ 

মেসিনা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ১৯৮৯-৯০ সালে জুভেন্টাসে যোগ দেন স্যালভাটোরে স্কিলাচি। জুভেন্টাসে দারুণ এক মৌসুম কাটানোর পর ১৯৯০ সালে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য ইতালি জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।  মাত্র একমাসের মধ্যেই তিনি ইতালিয়ানদের কাছে পরম ভক্তির পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। শুরুর দিকের দুটি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে নামলেও তিনি দ্রুতই নিয়মিত একাদশের অংশ হয়ে ওঠেন। ৬ টি গোল করে তিনি বিশ্বকাপের এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। এডিডাস গোল্ডেন বল, এডিডাস গোল্ডেন বুট এবং ইতালির তৃতীয় হওয়ার সুবাদে একটি ব্রোঞ্জপদকও পেয়েছিলেন।  দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লোথার ম্যাথিউসের পাশাপাশি স্যালভাটোরে স্কিলাচিও ঐ  বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে বিবেচিত হন। 

১৯৯০ বিশ্বকাপে স্যালভাটোরে স্কিলাচি গোল্ডেন বুট অর্জন করেন; Image Courtesy: talksport.com

পরবর্তীসময়ে এক সাক্ষাতকারে স্কিলাচি বলেন, ‘একদিক থেকে চিন্তা করতে গেলে আমার গোটা ক্যারিয়ার মোট তিন সপ্তাহ টিকেছিল।’ ইতালির হয়ে এরপর তিনি শেষ ম্যাচ জিতেছিলেন ১৯৯১ সালে। জুভেন্টাস ছাড়ার পর তিনি ইন্টার মিলানেও খেলেছিলেন। ক্যারিয়ারের শেষের দিনগুলো তিনি জাপানে খেলে কাটিয়েছেন। 

হেনরিক লারসেন১৯৯২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ সেমিফাইনাল 

হেনরিক লারসেন তার নিজ দেশ ডেনমার্কের বিভিন্ন ক্লাবে খেলে সাদামাটাভাবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৯০ সালে তিনি ইতালিয়ান ক্লাব পিসায় যোগ দেন। পাঁচ মৌসুমে ৪১ ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। এরপরেও তিনি ইউরো ১৯৯২ এর জন্য ডেনমার্ক জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।   সেমিফাইনাল ম্যাচে ডেনিস বার্গক্যাম্প, ফ্রাংক রিকার্ড, রুড গুলিট, মার্কো ভ্যান বাস্তেনদের মতো তারকা নিয়ে গড়া নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরিপূর্ণ ও পরিপক্ব ফুটবল খেলা দেখিয়েছিলেন লারসেন। লারসেনের জোড়া গোলের সুবাদে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ২-২ এ স্থির থাকে। পেনাল্টি শ্যুট আউটে খেলা গড়ালে প্রথমেই পেনাল্টি নিতে আসেন লারসেন। ঠিকঠাক মতো মাপা শটে বল জালে জড়াতে ভুল হয় না তার।

১৯৯২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জোড়া গোল করেন হেনরিক লারসেন; Image Courtesy: pinterest.com

শুরুটা ভালো হওয়ায় সতীর্থদের মধ্যে যে নার্ভাসনেস ছিল তার অনেকটাই কেটে যায়। সব কয়টা পেনাল্টি থেকে গোল তুলে নেয় ডেনমার্ক। অন্যদিকে ভ্যান বাস্তেন পেনাল্টি মিস করলে ডেনমার্ক উঠে যায় ইউরোর ফাইনালে। ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র মেজর ট্রফি হিসেবে উয়েফা ইউরো জিতে নেয় ডেনমার্ক। এরপর লারসেনের ক্যারিয়ার মন্থর গতিতে চলতে থাকে। লারসেন এরপর আর কখনোই ডেনমার্কের হয়ে গোল করতে পারেন নি। 

Feature Image Courtesy: newsviews.media