বিমান দুর্ঘটনা এবং কানিজ ফাতেমা রোকসানা

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, সকাল ৯ টা

আহমেদ কবিরের স্ত্রী কবির সাহেবকে তাগাদা দিচ্ছেন খামোখা বাসে করে ঢাকায় যাওয়ার দরকার নেই। আল্লাহ্ দিলে এখন তাদের হাতে টাকা পয়সা আছে। সে বিমানে আরাম করে যাক। কবির সাহেব সৌদি আরবে দোকান দিয়েছেন, ব্যবসাও বেশ ভালই চলছে। অগত্যা কবির সাহেবও ভাবলেন এখন রওনা দিলে জার্নি করে পাঁচটা বেজে যাবে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাত দশটায় সৌদি এয়ারলাইনসে উঠা তার জন্য কষ্ট হয়ে যাবে, এমনিতে বাতের রোগ আছে তার। এর চেয়ে বিমানে যাওয়াই ভাল। চিটাগাং এর সাথে ঢাকার প্লেন যোগাযোগ বেশ ভাল। সাবের সাহেব নাকি বিমানে যাচ্ছেন। সাবের সাহেবও আজ দশটার বিমানে সৌদি যাবেন। কবির সাহেব ভাবলেন তাহলে ঢাকায় বিমানে যাওয়াই ভাল হবে। তার স্ত্রীও তাতে সায় দিলেন।

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, দুপুর ১২ টা

কবির সাহেব বাসা থেকে বেবি ভাড়া করে উঠলেন। মনে মনে ভাবলেন, নাহ্, পরেরবার ইদে এসে একটা টয়োটা গাড়ি কিনলে কেমন হয়? তার মেয়ে সেই দূরে চট্টগ্রাম কলেজে যায়। ছেলেটাও বড় হয়ে গেছে। একটা গাড়ি থাকলে মন্দ হয় না। ছেলে মেয়েকে আদর করে স্ত্রীর দিকে ভালবাসার এক দৃষ্টি দিয়ে পতেঙ্গা বিমানবন্দরের উদ্দ্যেশে রওনা করলেন কবির সাহেব।

কানিজ ফাতেমা রোকসানা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বিমানের প্রথম মহিলা পাইলট; Image Courtesy: Wikipedia
কানিজ ফাতেমা রোকসানা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বিমানের প্রথম মহিলা পাইলট; Image Courtesy: Wikipedia

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, দুপুর ১টা ৪০ মিনিট  

নারী কন্ঠে ভেসে উঠলো, “সম্মানিত যাত্রীবৃন্দ ঢাকাগামী ফকার এফ ২৭-৬০০ উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক বিমানে এসে আপনার আসন গ্রহণ করুন।”

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, দুপুর ১টা ৫০ মিনিট

“Good Afternoon Dear passengers, I’m Captain Kayes Ahmed Mojumdar।” “Good Afternoon Dear passengers, I am first officer Kaniz Fatema Rokhsana. We are operating flight today. May your journey be safe.”

সিট বেল্ট লাগাতে লাগাতে আহমেদ কবির ভাবলেন কানিজ ফাতেমা রোকসানা নামটি কোথাও তিনি শুনেছেন। কোথায় যেন এখন ঠিক মনে পড়ছে না। ও হ্যাঁ, বছর সাতেক আগে তার মেয়ে এসে বলছিলো, “জানো বাবা, বাংলাদেশে প্রথম মহিলা বৈমানিক নিয়োগ হয়েছেন। নাম তার সৈয়দা কানিজ ফাতেমা রোকসানা।” এই কি! সেই কানিজ!

কানিজ ফাতেমা রোকসানা!

ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা হয়েছে ফকার এফ টোয়েন্টি সেভেন। আহমেদ কবির ভাবছেন তার সংগ্রামের কথা। ঐযে কত ছোটছোট গাছপালা দেখা যাচ্ছে। তার থেকে অর্থবিত্তে ছোট ছিলেন তিনি। গ্রামের ভিটে জমি বিক্রি করে সৌদি আরব গিয়েছেন। তিলে তিলে এ বাড়ি ও বাড়ি ভুতের মত খেটে একটু একটু পয়সা জমিয়ে সৌদিতে ব্যবসা দাড়া করিয়েছেন। সেই আজ তিনি বিমানে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কেবিন ক্রু এসে তাকে খাবার দিয়ে গেল। খাবার দেখে হুট করে কবির সাহেবের পরিবারের কথা মনে পড়ে গেল। তার স্ত্রী বিদায় বেলা বলেছিলেন “ঢাকা গিয়ে টেলিগ্রাম দিও কেমন?”

বাংলাদেশের বিমানগুলোতে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানা যায়; Image Courtesy: thedailystar.net
বাংলাদেশের বিমানগুলোতে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানা যায়; Image Courtesy: thedailystar.net

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট

আহমেদ কবির ভাবলেন ঢাকায় গিয়েই টেলিগ্রাম দিবেন। ভাবতেই ভাবতেই ঢাকার আকাশে প্রবেশ করলো বিমানটি। একি বিমানের জানালা দিয়ে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এত বৃষ্টি ঢাকায়। প্লেনটি বাতাসে বাড়ি খাচ্ছে আর দুলে দুলে কাঁপছে। বিমানের মধ্যে এক ধরণের চাপা আতঙ্ক। মাবুদ! রক্ষা করো।

ককপিট থেকে কানিজের স্বর,
“Dear passengers, we are trying to get off the runway in Zia international airport but it not possible to get off due to bad weather, we are trying please stay in calm.”

বিমানটি একবার রানওয়ের দিকে এসে উড়ে গেল আবার রানওয়েতে নামতে গেলো কিন্তু পারলো না। তাই আবার উড়ে গেলো। আহমেদ কবির ভাবলেন এ ভাল মুসিবতে পড়া গেল। এমন আবহাওয়া থাকলে আজ সৌদির বিমান উড়বে তো! ককপিট থেকে আবার আওয়াজ,

“Dear passengers, we can’t see the runway yet due to bad weather. Fuel is running out and this time we are probably going to land. Please fasten the seat belt”

কানিজ ফাতেমার মতই নিজের জীবন দিয়ে প্লেন ক্রাশ ঠেকাতে চেয়েছিল নারী পাইলট পৃথুলা রশীদ; Image Courtesy: daily-bangladesh.com
কানিজ ফাতেমার মতই নিজের জীবন দিয়ে প্লেন ক্রাশ ঠেকাতে চেয়েছিল নারী পাইলট পৃথুলা রশীদ; Image Courtesy: daily-bangladesh.com

কানিজ ফাতেমা কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। কায়েস আহমেদ তার অভিজ্ঞতা লাগিয়ে নেভিগেটর আর বাইরে তাকিয়ে রানওয়ে খুঁজে যাচ্ছেন। ATC Tower এর গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন কানিজ। ১৪ নাম্বার রানওয়েতে নামতে বলছে। প্রবল বৃষ্টি আর বাতাস ঐ তো নিচে কালো কালো কিছু দেখা যাচ্ছে। ঐটাই রান ওয়ে হবে।

৫ আগস্ট, ১৯৮৪, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট

আহমেদ কবির ভাবলেন এবার সৌদিতে গিয়ে তার বউ এর জন্য একটি ২১ ক্যারেটের সোনার হার দিবেন। ২৫ বছরের সংসার তাদের। বিয়ের পর কিছুই দিতে পারেন নি। আজীবন কষ্ট করেছেন সুখের দিন আসা শুরু করেছে। যাই হোক, বিমানটি কালো কালো দেখতে পাওয়া জায়গায় অবতরণ করলো। হ্যাঁ, সেটি মূল রানওয়ে থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি ডোবা ছিল। অবতরণের সাথে সাথে প্রচন্ড বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল বিমানটি। সাথে সাথে আহমেদ কবির ও তার সুন্দর স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটলো। এমন স্বপ্ন শুধু তিনি নয় আরো ৩৩ জনের ছিলো। যাদের সেদিন মিডলইস্টের ফ্লাইট ধরার কথা ছিলো।

হ্যাঁ, বলছিলাম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিমান বাংলাদেগ এয়ারলাইনস এর সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা। ১৯৮৪ সালের ৫ই আগস্ট এই বিমান দুর্ঘটনায় ৪৫ জন যাত্রীসহ ৪ জন ক্রু সবাই নিহত হয়।


আমরা ছোটবেলায় সাধারণ জ্ঞানের বইতে এই তথ্যটা পড়তাম যে, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলটের নাম কানিজ ফাতেমা রোকসানা। হ্যাঁ, সৈয়দা কানিজ ফাতেমা রোকসানা। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা কমার্শিয়াল পাইলট। যিনি ১৯৭৭ সালে লাইসেন্স প্রাপ্ত হোন। কিন্তু এতটুকুতে থেমে থাকে নি তার পরিচয়। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনায় জড়িয়ে গেছে তার নাম। তবে কি তিনি আমাদের ইতিহাসে একই সাথে গর্বের এবং ট্রাজেডি নায়িকা হলেন? এ দুর্ঘটনায় তার দায় কতটুকু ছিল? চলুন শুরু করা যাক গড়া থেকেই।

ত্রিভুজ চিহ্নিত স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল; Image Courtesy: daily-bangladesh.com
ত্রিভুজ চিহ্নিত স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল; Image Courtesy: daily-bangladesh.com

১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসর ফকার কোম্পানি PIA (Pakistan Airlines) এর জন্য বিমান নির্মাণ করে। কিন্তু যুদ্ধের জন্য এই বিমানটি দিতে পারে নি। পরে Air India এই বিমানটি কিনে নেয়। এক বছর এয়ার ইন্ডিয়ার হয়ে সার্ভিস দেয় এই বিমানটি। অতঃপর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বিমানটি পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানটি পেয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল শুরু করে। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি মোট ২৪,০৮৫ চক্র এবং ১৫,৫৯৫ এয়ারফ্রেম ঘন্টা উড়েছিলো।

দুর্ঘটনার দিন ঢাকার আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল ও ভারী বৃষ্টিপাত কারণে দৃষ্টিসীমানা বোঝা যাচ্ছিলো না। এই অবস্থার মধ্যে, বিমানটি বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়; পাইলট প্রথমে ৩২ নং রানওয়েতে অবতরণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রানওয়ে দেখা না যাওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে পাইলট বুঝতে পারেন যে তিনি ভুল দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, তখন পাইলট অবতরণ না করে আবার উড়ে যান। দ্বিতীয় দফায় আইএলএস ব্যবহার করে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়; নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে রানওয়ে ১৪ তে অবতরণ করার নির্দেশনা নেয়া হয়। ভারী বর্ষণের মধ্যে প্রবল ঝোড়ো বাতাসে আবার অবতরণের চেষ্টা চালালে পার্শ্বমুখি বাতাসের ঝাপটার কারণে অবতরণ করা আবার ব্যর্থ হয়।

তৃতীয়বার অবতরণ করার সময়, পাইলটগন আবার ভুল জায়গায় রানওয়ে চিহ্নিত করেন, প্লেনে অনবরত বাতাসে ঝাপটা আসছিলো। ল্যান্ড এরিয়ার কাছাকাছি এসে পাইলট গন হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন তাদের ভুল কিছু হচ্ছে। কিন্তু বিমানটিকে আবার পুনরায় আকাশে উড়িয়ে নেয়ার মত ফুয়েল আর ছিল না (রানওয়ে ১৪ তে দ্বিতীয়বার)। বিমানটি রানওয়ে থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে একটা ডোবায় আবতরণ করে এবং কয়েক পার্টে বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটি ছিল উত্তরা জসিমউদ্দিন সড়কের কাছে।

বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারচিত্র; Image Courtesy: Bangladesh Aviation Hub
বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারচিত্র; Image Courtesy: Bangladesh Aviation Hub

তদন্ত

দুঃখজনক হলেও সত্যি এ বিমান দুর্ঘটনা খুবই রহস্যময়। Bangladesh Aviation Hub এর মতে, দক্ষতার অভাবের কারণে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে কখনই পরিষ্কার তদন্ত করা হয়নি এবং বেশিরভাগ প্রমাণ ধ্বংসস্তূপ পুনরুদ্ধারের সময় ধ্বংস করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপটি পুনরুদ্ধারের তদারকি করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসারও দুর্ঘটনার জায়গায় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে মারা গিয়েছিলেন। ব্ল্যাক বক্সের ডেটা উদ্ধার করা হয়নি এবং বেশ কয়েকটি  ককপিট সিস্টেম বিমানটিতে ত্রুটিযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ফকার বিমানে থাকা আবহাওয়ার রাডারটি কাজ করছিল না এবং ধ্বংসস্তূপের পরিদর্শনকালে তদন্তকারীরা দেখতে পান যে অ্যালটাইমিটারগুলি, যা ভূমি থেকে বিমানের উচ্চতা দেখায়, ভুল পড়ছিল। ক্যাপ্টেন কায়েস তার অ্যালটাইমিটারে ৩২৫০ ফুট প্রদর্শন করেছিলো যখন প্রথম অফিসার রোকসানার পড়েন ২৫০ ফুট।

আজ অব্দি বাংলাদেশের মাটিতে এই বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরও যত দুর্ঘটনা

Aviation safety Network বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১২ টি দুর্ঘটনা সনাক্ত করে। তবে ১৯৮৪ সাল বাদে আর কোনটিতে নিহত হয় নি। ১৯৭২, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৯৭, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৭, ২০১৯ (২) দুর্ঘটনা হয়েছিলো। ১৯৯৭ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি এফ-২৮ স্থানীয় ফ্লাইট ঢাকা থেকে আসার সময় সিলেট বিমান বন্দর থেকে ৩ কি:মি দূরে ধান ক্ষেতে অবতরন করে।

১৯৯৭ সালের বিমান বিধ্বস্তের চিত্র; Image Courtesy: baaa-acro.com
১৯৯৭ সালের বিমান বিধ্বস্তের চিত্র; Image Courtesy: baaa-acro.com

বিমানটি ৫৬ জন যাত্রী বহন করছিল। শীতকালীন কুয়াশার কারনে পাইলটের দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। সিলেট বিমান বন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের কোন ধারনা ছিলনা বিমানটিতে কি ঘটেছিল। বিধ্বস্ত হবার ২ ঘন্টা পর গ্রামবাসীদের মাধ্যমে তারা খবর পান। ঐ ঘটনায় ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছিল, কেউ নিহত হয়নি। ঘটনাটি বেশ আলোড়ন তুলেছিলো ।

[আহমেদ কবিরের সম্পর্কিত লেখাটি কাল্পনিক। লেখক লেখার স্বার্থে এনেছেন। তবে ঘটনা মুল ঘটনার সাথে কোনরূপ সাংঘর্ষিক নয়]

Feature Image Courtesy: Wikipedia

References:

Blog : ওয়াসিম সোবহানের ভাবনা

 Accident description for S2-ABJ at the Aviation Safety Network

Jump up to:a b “Commercial flight safety: 1984 reviewed – Fatal accidents: scheduled passenger flights” (PDF). Flight International: 35. 26 January 1985. Retrieved 14 August 2014.

Jump up to:a b “AROUND THE WORLD; 49 Die in Bangladesh As Plane Plunges”The New York TimesReuters. 6 August 1984. ISSN 0362-4331. Retrieved 14 August 2014.

^ Ranter, Harro. “Bangladesh air safety profile”. aviation-safety.net. Aviation Safety Network. Retrieved 18 November 2019.

^ “Breaking the Glass Ceiling”. thedailystar.net. Retrieved 23 June 2015.

^ “First in Bangladesh – First Bangladeshi”. all-bangladesh.com. All Bangladesh. 10 December 2013. Archived from the original on 14 August 2014. Retrieved 18 November 2019.

^ “Plane crash kills female trainee pilot in Bangladesh

Bangladesh Aviation Hub Facebook Page